বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় : স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের তোড়জোড়

আগামী শীত ও বসন্তকালীন (ফল) সেমিস্টার শুরু হওয়ার আগেই স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ করা না হলে শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধ করে দেওয়া হবে_গত ডিসেম্বরে শিক্ষামন্ত্রীর এ ঘোষণার পর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের তোড়জোড় শুরু হয়েছে। গত ছয় মাসে বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় জমি সংগ্রহ করেছে। অনেকে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছে এবং কেউ কেউ ক্যাম্পাস নির্মাণের কাজ শুরু করেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত ১৮ বছরে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ক্যাম্পাস নির্মাণে যতটা না উদ্যোগী হয়েছে, গত ছয় মাসে তার চেয়ে বেশি উদ্যোগী হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ কালের কণ্ঠকে বলেন, যারা ক্যাম্পাস নির্মাণে আন্তরিকতা ও যথাযথ তৎপরতার প্রমাণ রাখবে, তাদের ক্ষেত্রে ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ করা হবে না; বরং সরকার তাদের সহায়তা করবে। কারণ, সরকার কোনোভাবেই চায় না, এসব প্রতিষ্ঠান বন্ধ হোক।
বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির চেয়ারম্যান ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা সি এম শফি সামি কালের কণ্ঠকে বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওই ঘোষণার পর অনেক বিশ্ববিদ্যালয় স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের কাজ শুরু করেছে। এরই মধ্যে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় জমি সংগ্রহ করেছে, অনেকে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছে। অনেকে নির্মাণকাজও শুরু করেছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ৫৪টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। এগুলোর মধ্যে ৯টির শিক্ষাকার্যক্রম স্থায়ী ক্যাম্পাস থেকে পরিচালিত হচ্ছে। সর্বশেষ ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি স্থায়ী ক্যাম্পাসে শিক্ষাকার্যক্রম শুরু করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়টি গত জানুয়ারি মাসে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ করেছে। রাজধানীর বনশ্রীর আফতাব নগরে ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি, সাভারে গণবিশ্ববিদ্যালয় ও আশুলিয়ায় সিটি ইউনিভার্সিটির স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এ বছরেই স্থায়ী ক্যাম্পাসে এদের শিক্ষাকার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা।
সাউথ ইস্ট ইউনির্ভাসিটির নিজস্ব ক্যাম্পাস নির্মাণও শেষ পর্যায়ে। আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক, ডেফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ইউনাইটেড ইন্টারন্যশনাল ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস (ইউল্যাব), শান্ত মারিয়াম এবং সিলেটের লিডিং ইউনির্ভাসিটি নিজস্ব ক্যাম্পাস তৈরির কাজ শুরু করেছে। কয়েক দিন আগে ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি স্থায়ী ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠার জন্য ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছে। অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নিজস্ব ক্যাম্পাস তৈরির কাজে তেমন অগ্রগতি নেই।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের ব্যাপারে সরকারি শর্ত পূরণ করতে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। বিশেষ করে রাজধানীতে অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বিস্তর ঝক্কিঝামেলা পোহাতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রেই শর্তানুযায়ী একত্রে এক একর জমি পাওয়া যাচ্ছে না। নতুন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইনের কড়াকড়ির কারণে মিলছে না ব্যাংকঋণও। উদ্যোক্তাদের মতে, ক্যাম্পাসের জন্য যেসব জমি পাওয়া যাচ্ছে, তা শহরের একটি নির্দিষ্ট পাশে। এসব এলাকায় ক্যাম্পাস হলে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত খরচ ও দুর্ভোগ দুটোই বাড়বে বলে তাঁরা মনে করছেন।
অপেক্ষাকৃত নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা কালের কণ্ঠকে বলেন, তাঁদের পক্ষে রাতারাতি ক্যাম্পাস নির্মাণ সম্ভব নয়। তবে দু-তিন বছরের মধ্যে নিজস্ব ক্যাম্পাসে শিক্ষাকার্যক্রম শুরু করা যাবে। কিন্তু এর আগেই নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধ হয়ে গেলে ক্যাম্পাস নির্মাণের মতো ব্যয়বহুল কাজ কোনোভাবেই করা যাবে না। এ বিষয়টিকেই তাঁরা এখন মূল হুমকি হিসেবে দেখছেন।
ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক রেজোয়ান খান কালের কণ্ঠকে বলেন, এত বড় খাতকে অনিশ্চয়তার মধ্যে রাখা ঠিক নয়। শিক্ষামন্ত্রী যদি আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে স্থায়ী ক্যাম্পাসে শিক্ষাকার্যক্রম স্থানান্তরের ব্যাপারে কিছু নির্দেশনা দেন তাহলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো উপকৃত ও স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে পারবে।
সূত্র: কালের কণ্ঠ

শেয়ার :

|

আরো পোস্ট

মন্তব্য করুন