মেলায় যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষার তথ্য

হাবিবুর রহমান তারেক
‘ব্রিটেনের ডিগ্রি বিশ্বখ্যাত’ − ঢাকায় যুক্তরাজ্যের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার নিক লোর এ বক্তব্যে কারো আকৃষ্ট হওয়ার কথা নয়! বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা এ কথা যে আগে থেকেই জানেন। আর জানেন বলেই ব্রিটিশ কাউন্সিল আয়োজিত ‘এডুকেশন ইউকে এক্সিবিশন ২০১১’ শীর্ষক শিক্ষামেলার প্রথম দিনেই নেমেছিল শিক্ষার্থীদের ঢল। ২৬-২৭ জানুয়ারি রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে বসেছিল এ মেলা। চট্টগ্রামের এ মেলা বসেছিল ২৯ জানুয়ারি।
যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী শিক্ষার্থীরা মেলায় অংশগ্রহণকারী ৪১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের কাছ থেকে পেয়েছেন ভর্তি ও পড়াশোনার তথ্য।
ব্রিটিশ কাউন্সিলের পারফরম্যান্স মার্কেটিং অ্যান্ড কমিউনিকেশন প্রধান রাইকা ওয়ালি খান জানান, মেলায় যুক্তরাজ্যের ৪১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৫২ জন প্রতিনিধি শিক্ষার্থীদের সরাসরি ভর্তি তথ্য দিয়েছে। মেলায় অংশ নেওয়া কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের মানের ব্যাপারে প্রশ্ন করলে তিনি জানান, এ বিষয়ে নিশ্চিত হয়েই এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে মেলায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
ভাষা দক্ষতা ও আর্থিক সামর্থ্য থাকলেই ভিসা
যুক্তরাজ্যে ‘স্টুডেন্ট ভিসা’ আবেদনের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে গত বছর। ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে কিছুটা কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। ইউনিভার্সিটি অব গ্রিনিচের ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটমেন্ট অফিসার জুলিয়া এটওয়েল বলেন, ‘ভিসাপ্রাপ্তিতে কিছুটা কড়াকড়ি আছে, তবে এ নিয়ে প্রকৃত শিক্ষার্থীদের ভয়ের কিছু নেই। আইইএলটিএস স্কোর (৫.৫ থেকে ৬.০) এবং আর্থিক সচ্ছতার কাগজপত্র (ব্যাংক সলভেন্সি) দেখাতে পারলে ভিসা পাওয়া অনেক সহজ।’
ইউনিভার্সিটি অব ম্যানচেস্টারের সিনিয়র ইন্টারন্যাশনাল অফিসার লিজ গ্রিন জানান, লন্ডনের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তীচ্ছুদের আর্থিক সচ্ছতার প্রমাণ হিসেবে সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রামের এক বছরের টিউশন ফির সামর্থ্য ও অতিরিক্ত আট লাখ টাকা বাংলাদেশের ব্যাংকে দেখাতে হয়; কিন্তু ম্যানচেস্টারের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত প্রায় পাঁচ লাখ টাকা দেখালেই চলে।’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী কামরুল হাসান এসেছিলেন যুক্তরাজ্যে মাস্টার্সে পড়াশোনার তথ্য নিতে। তিনি জানান, পড়াশোনার খরচ বহনের সামর্থ্য আছে; কিন্তু একসঙ্গে এত টাকা ব্যাংকে দেখানোই কষ্টসাধ্য।
লন্ডন মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির অপারেশন ম্যানেজার কে এম মাজহারুল ইসলাম মারুফ জানান, ‘ব্যাচেলর পর্যায়ে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবছরের নিয়মিত টিউশন ফি প্রায় ৯ হাজার ৬০০ পাউন্ড। তবে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য এক হাজার পাউন্ড ছাড় দেওয়া হচ্ছে।’
পছন্দের বিষয় ও কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়
বাজারে চাহিদা আছে এমন সব বিষয় অফার করছে যুক্তরাজ্যের কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। ব্রিটিশ কাউন্সিলের কর্মকর্তা রাইকা ওয়ালি খান জানান, আইন, বিজনেস স্টাটিজ, ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ এবং ইলেকট্রিকাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনা করতে সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থী যুক্তরাজ্যে যাচ্ছে।
বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে_মার্কেটিং, ট্যুরিজম ম্যানেজমেন্ট, টেলিকমিউনিকেশন, ইঞ্জিনিয়ারিং, ফ্যাশন ডিজাইনসহ অনেক বিষয়েরই তথ্য নিয়েছে ভর্তীচ্ছুরা। কম্পিউটিং ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়েও অনেক শিক্ষার্থী পড়তে আগ্রহী বলে জানান ইউনিভার্সিটি অব ইস্ট লন্ডনের কাউন্সিলর জোবায়ের আহমেদ।
ঢাকা কলেজ থেকে ২০১০ সালে মানবিক শাখা থেকে এইচএসসি পাস করেছেন মাহবুবুর রহমান শুভ্র, মেলায় তিনিও এসেছিলেন ভর্তির তথ্য পেতে। যুক্তরাজ্যের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন পড়ার ইচ্ছা থাকলেও টিউশন ফি বেশি হওয়ায় কলেজকেই বেছে নিতে চান তিনি।
কুমিল্লার শহীদ স্মৃতি সরকারি কলেজ থেকে ২০০৯ সালে এইচএসসি পাস করা ছাত্র পলাশ সরকার মেলায় এসেছিলেন ‘ফিজিঙ্’ ও ‘মাইক্রোবায়োলজি’ বিষয়ে ভর্তি তথ্য জানার জন্য। পলাশ বলেন, ‘যুক্তরাজ্যের ডিগ্রির মূল্যায়ন সব দেশেই আছে, তাই ভর্তির জন্য সঠিক ইনস্টিটিউট খুঁজছি।’
টাঙ্গাইলের মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শরিফুল ইসলামের সঙ্গে কথা হয় মেলার কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের স্টলে। তিনি বলেন, পড়াশোনার মান ভালো এবং তুলনামূলক খরচ কম_এমন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার ইচ্ছে আছে।
ভর্তির তথ্য ও পরামর্শ পাবেন আপনিও
যারা মেলায় অংশ নিতে পারেননি, তাঁরাও ভর্তি ও আবেদনের তথ্য পাবেন ব্রিটিশ কাউন্সিলের ঢাকা (ফুলার রোড), চট্টগ্রাম ও সিলেট শাখায় সপ্তাহে ছয় দিন, সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। ব্রিটিশ কাউন্সিলের পারফরম্যান্স মার্কেটিং অ্যান্ড কমিউনিকেশনের প্রধান রাইকা ওয়ালি খান বলেন, ‘অভিজ্ঞ ও যুক্তরাজ্যে প্রশিক্ষিত কাউন্সিলররা উচ্চশিক্ষা বিষয়ে তথ্য, পরামর্শ দিয়ে থাকে। যোগ্যতা ও পছন্দ অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাছাই করা এবং সেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করা, আবেদন ফরম পূরণসহ ভর্তি ও ভিসা প্রক্রিয়ায় সহায়তা করেন কাউন্সিলররা।’
পরামর্শ সেবা নিশ্চিত করতে ব্রিটিশ কাউন্সিলের আছে ‘প্রফেশনাল অ্যাডভাইজরি সার্ভিস ফর স্টুডেন্টস’ (পিএএসএস) কার্যক্রম। বিস্তারিত তথ্য পেতে খোঁজ নিন ব্রিটিশ কাউন্সিলে_ঢাকা : ৫ ফুলার রোড,
ফোন: ০২-৮৬১৮৯০৫।
চট্টগ্রাম : ৭৭/এ পূর্ব নাসিরাবাদ, ফোন: ০৩১-৬৫৭৮৮৪।
সিলেট : আল-হামরাহ শপিং সিটি (৭ম তলা), জিন্দাবাজার, ফোন: ০৮২১-৮১৪৯২৫।
তথ্য পেতে পারেন ঘরে বসেও
যুক্তরাজ্যে ভর্তি, আবেদন ও পড়াশোনার তথ্য পেতে পারেন ঘরে বসেও। বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় সব তথ্যই যুক্ত করা হয়েছে সংশ্লিষ্ট ওয়েবে। ব্রিটিশ কাউন্সিলের এক্সমস মার্কেটিংয়ের প্রধান এমআই মেহরাব জানান, যুক্তরাজ্যে পড়াশোনার দরকারি তথ্য পাওয়া যাবে নির্ভরযোগ্য কিছু ওয়েবসাইটে। কয়েকটি সাইটের ঠিকানা−
এডুকেশন ইউকে − www.educationuk.org
ইউনিভার্সিটি অ্যান্ড কলেজ অ্যাডমিশন সার্ভিস − www.ucas.com
পোস্টগ্র্যাজুয়েট কোর্স অ্যান্ড ক্যারিয়ার − www.prospects.ac.uk
স্কলারশিপ − www.orsas.ac.uk,ww w.dfid.gov.uk,ww w.educationuk.org/scholarships,ww w.acu.ac.uk
স্টুডেন্ট ভিসা − www.ukvisas.gov.uk,ww w.ukba.homeoffice.gov.uk,ww w.vfs-uk-bd.com/visa-info.aspx, http://ukinbangladesh.fco.gov.uk/bn/visas/
ইউকে কাউন্সিল ফর ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স − www.ukcisa.org.uk
অ্যাক্রিডিটেশন ইউকে − www.britishcouncil.org/accreditation.htm
ডিসট্যান্স লার্নিং কোর্স − www.odlqc.org.uk
ইউনিভার্সিটিইড − www.guardian.co.uk/education/
universityguide
সূত্র: কালের কণ্ঠ । সিলেবাসে নেই । ২৫-১-২০১১

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.