হাতের মুঠোয় কলেজে ভর্তি

কোথায় গোল্ডেন জিপিএ ৫ পাওয়ার আনন্দে মাতোয়ারা হবে তা না, মুখ ভার করে আছে রিমঝিম ও কেয়া! ব্যাপারটা কী! কেয়া বলল, ‘ভালো কলেজে ভর্তি হতে না পারলে এ+ পাওয়াটাই মাটি।’ রিমঝিমের তো ভর্তির কথা ভেবে রাতের ঘুমই হারাম হয়ে গিয়েছিল। ‘উফ্, কড়া রোদে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে ফরম তোলা, আবার সেই ফরম জমা দেওয়া−ভাবলেই গায়ে কাঁটা দিত।’
ঢাকার ১৬টি, চট্টগ্রামের পাঁচটি, কুমিল্লার ১১টিসহ দেশের বেশ কিছু কলেজ এবার এসএমএস ও অনলাইনেই শুরু করেছে ভর্তিপ্রক্রিয়া। মোবাইল ফোনের মেসেজ অপশনে গিয়ে ঝক্কিঝামেলা ছাড়াই রিমঝিম ও কেয়া সারতে পেরেছে কলেজে ভর্তির আবেদনের প্রক্রিয়া। ফিরতি এসএমএসে সঙ্গে সঙ্গে জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে পিন নম্বর এবং কবে ও কিভাবে ভর্তিপ্রক্রিয়া শেষ করতে হবে। এ নিয়মে ভর্তির আবেদন করা যাবে ৯ জুন পর্যন্ত। ভর্তির জন্য নির্বাচিত প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হবে ১৯ জুন শিক্ষা বোর্ডসহ (dhakaeducationboard.gov.bd) সংশ্লিষ্ট কলেজের ওয়েবসাইটে। বিলম্ব ফি ছাড়া ভর্তির শেষ তারিখ ২৮ জুন। ক্লাস শুরু হবে ২ মে।
সহজেই ভর্তির আবেদন
শুধু একটি টেলিটক সিম থাকলেই হলো, ভর্তির আবেদনের পাশাপাশি ফিও জমা দেওয়া যাবে মোবাইল ফোনের বার্তায়। আবেদন করতে মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে CAD টাইপ করতে হবে, এরপর স্পেস দিয়ে কাঙ্ক্ষিত কলেজের EIIN নম্বর লিখে আবার স্পেস, এরপর কাঙ্ক্ষিত গ্রুপের প্রথম অক্ষর (যেমন বিজ্ঞান হলে S, মানবিক হলে H, ব্যবসায় শিক্ষা হলে B) টাইপ করে স্পেস, বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর দিয়ে স্পেস, রোল নম্বর স্পেস, পাসের সাল স্পেস, শিফটের নাম স্পেস (যেমন মর্নিং হলে M, ডে হলে D, ইংরেজি মাধ্যম হলে E, শিফট না থাকলে N), সবশেষে কোটার নাম (মুক্তিযোদ্ধা হলে FQ, কর্মকর্তা, কর্মচারী, গভর্নিং বডির সন্তানদের বেলায় EQ, অন্যদের বেলায় অপশনে কিছু লেখার দরকার নেই) লিখে এসএমএস পাঠাতে হবে ১৬২২২ নম্বরে। একজন শিক্ষার্থী একাধিক কলেজে বা একই কলেজের একাধিক গ্রুপে আবেদন করতে পারবে, তবে তাকে পৃথকভাবে মেসেজ পাঠাতে হবে।
কলেজের ইআইআইএন নম্বর
ভর্তির আবেদনের জন্য জানতে হবে কাঙ্ক্ষিত কলেজের ‘ইআইআইএন’ (eiin) নম্বর−
ঢাকা কলেজ (১০৭৯৭৭), সরকারি বাঙ্লা কলেজ (১০৮২১০), সরকারি বিজ্ঞান কলেজ (১০৮৫৩৫), সরকারি কবি নজরুল কলেজ (১০৮৫০৭), বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ (১০৮১৫৫), সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ (১০৮৫০৮), সরকারি ভাওয়াল বদরে আলম কলেজ (১০৯০৩১), সরকারি টঙ্গী কলেজ (১০৯০৬১), সরকারি তোলারাম কলেজ (১১২৪৭৮), রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ (১০৮৫৭৩), তেজগাঁও কলেজ (১০৮৫৩৩), ঢাকা সিটি কলেজ (১০৭৯৭৫), ঢাকা কমার্স কলেজ (১০৮২০৭), ভিকারুননিসা নূন কলেজ (১০৮৩৫৭), মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল ও কলেজ (১০৮২৭৭), রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ (১০৮২৫৮), বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ রাইফেলস পাবলিক স্কুল ও কলেজ (১০৮১৬১), লালমাটিয়া মহিলা কলেজ (১০৮২৫১), ঢাকা ইম্পেরিয়াল কলেজ (১০৭৯৭৪), কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ (১০৫৮২২), কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ (১০৫৮২১), কুমিল্লা সরকারি কলেজ (১০৫৮২৪), নওয়াব ফয়জুন্নেছা সরকারি কলেজ (১০৫৯৫৫), চাঁদপুর সরকারি কলেজ (১০৩৫৬৮), ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ (১০৩২৯৪), চৌমুহনী সরকারি এসএ কলেজ (১০৭২৫৩), ফেনী সরকারি কলেজ (১০৬৬৪২), নোয়াখালী সরকারি কলেজ (১০৭৬৫৯) এবং সরকারি কমার্স কলেজ, চট্টগ্রাম (১০৪৩০২)।
স্বস্তির হাওয়া
কলেজে গিয়ে ভর্তি ফরম আনা, ফরম জমা দেওয়া, ব্যাংকে গিয়ে টাকা জমা দেওয়া−এসব কাজ তো অভিভাবকের কাঁধেই চাপত। এসএমএসের মাধ্যমে ভর্তিপদ্ধতির ফলে সেই চিত্র অনেকটা পাল্টে গেছে। ‘সারা বেলা ঘোরাঘুরি করে তবেই ফরম তুলতে পেরেছিলাম বড় ছেলের জন্য। এখন তো ঘরে বসেই ফরম পূরণ করছে মেয়ে’−এভাবেই স্বস্তি ঝরল মতিঝিলের বাসিন্দা মুনমুন সাহার। ডিজিটাল ভর্তিপ্রক্রিয়ায় যারপরনাই খুশি মোহাম্মদপুরের অনন্যা। সে একই সঙ্গে তিনটি কলেজে আবেদন করেছে। রাজউক উত্তরা মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্র ইমন বলল, ‘এ প্রক্রিয়ায় সময় ও অর্থ−দুটোরই সাশ্রয় হলো।’
তথ্যপ্রযুক্তির ছোঁয়ায় এখন গ্রামে বসেও জানা যাচ্ছে শহরের কলেজগুলোর ভর্তির তথ্য। নরসিংদীর শিশির জানাল, এবার আর ঢাকা যাওয়ার বিড়ম্বনা নেই। ফরম তোলা, টাকা জমা দেওয়া−সবই এখন মোবাইলে করা যাচ্ছে।
তার পরও আছে অভিযোগ
এসএমএস ও অনলাইনে ভর্তিপ্রক্রিয়া নিয়েও অনেকের মনে জেগেছে ক্ষোভ। বাড্ডার এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক তাজুল ইসলাম বলেন, ‘কেবল টেলিটকের মাধ্যমেই ভর্তিপ্রক্রিয়া সারা যাচ্ছে। এর জন্য টেলিটকের সিম কিনতে হবে।’ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের বাসিন্দা আবু রায়হান জানান, এলাকায় টেলিটকের নেটওয়ার্ক নেই। এ সুবিধা সব অপারেটরের জন্যই রাখা উচিত ছিল। হাতে গোনা কয়েকটি কলেজই ডিজিটাল ভর্তি পদ্ধতিতে সাড়া দিয়েছে।
রাজউক উত্তরা মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ কর্নেল এ এস এম মুশফিকুর রহমান বলেন, ‘এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শুধু শিক্ষার্থী ও অভিভাবকই নয়, কলেজ কর্তৃপক্ষও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে। তিন-চার দিন ধরে বুথে ফরম বিক্রি, তথ্য দেওয়া, ফরম যাচাই-বাছাই মোটেই সহজসাধ্য ছিল না। এখন সে ঝামেলা আর নেই।’ তিনি জানান, এটি পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হয়েছে। সফল হলে ধীরে ধীরে সব কলেজই এ পদ্ধতির আওতাভুক্ত হবে।
লিখেছেন : হাবিবুর রহমান তারেক জয়ন্ত সাহা
সূত্র : কালের কণ্ঠ । সিলেবাসে নেই । ৮-৬-২০১১

  • শিক্ষাবিষয়ক দরকারি তথ্য তাৎক্ষণিক পেতে আমাদের ফেইসবুক পেজে লাইক দিয়ে রাখুন : www.facebook.com/EducationBarta
  • মন্তব্য করুন

    This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.