মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুল বা ম্যাটস কোর্সের বিস্তারিত

অনেকেই মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুল বা ম্যাটস (Medical Assistant Training School – MATS) সম্পর্কে জানতে চান। বর্তমানে সরকারি পর্যায়ে মাত্র ৮টি ম্যাটস প্রতিষ্ঠান আছে। এই কোর্স সম্পন্ন কারীদের Diploma of Medical Faculty (DMF) Degree দেয়া হয়। এই কোর্স করে সহজেই চাকরি ও আত্ম কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

ভর্তি হতে চাইলে : বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জীববিজ্ঞানসহ এসএসসি বা সমমান পরীক্ষায় নূন্যতম জিপিএ ২.৫ থাকতে হবে। শিক্ষা বিরতি থাকলেও ভর্তি হওয়া যায়।

চাকরির সুযোগ কেমন :
MATS কোর্স সম্পর্ন্ন কারীকে DMF বা Diploma of Medical Faculty সার্টিফিকেট দেয় রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদ। এই ডিগ্রিপ্রাপ্তরা চিকিৎসকের সহকারী হিসেবে কাজ করতে পারেন। DMF ডিগ্রি প্রাপ্তদের কর্মক্ষেত্রের সুযোগ অনেক। সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অধীনে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্র, বিভিন্ন স্বাস্থ্য-উপকেন্দ্র, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র, স্কুল হেলথ্‌ ক্লিনিক, বিভিন্ন আধাসরকারি/ কর্পোরেশন যেমনঃ তিতাস গ্যাস, বি আই ডব্লিউ টি এ, বিজি প্রেস, বাংলাদেশ বিমান, ইত্যাদি প্রতিষ্ঠান ছাড়াও বিভিন্ন এনজিও প্রতিষ্ঠান যেমন:- ব্র্যাক,আশা, গণস্বাস্থ্য, কেয়ার, গণ সাহায্য সংস্থা, আই সি ডি ডি আর বি, সেভ দ্যা চিলড্রেন, প্রভৃতি প্রতিষ্ঠানে তারা নিয়োগ প্রাপ্ত হয় এবং কাজ করার সুযোগ পায়। এছাড়াও দেশি বিদেশী নানা প্রতিষ্ঠানেও কাজ করার সুযোগ রয়েছে। ভবিষ্যতে আরও নতুন নতুন কর্ম ক্ষেত্র তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারি চাকরিতে DMF-দের সাব এ্যাসিস্টেন্ট কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার বা মেডিকেল এ্যাসিস্টেন্ট হিসাবে চাকরি পেতে পারেন।

ম্যাটস সনদের স্বীকৃতি :
৪ বছর মেয়াদী এই কোর্স শেষের পর সহকারী চিকিৎসক হিসাবে পেশাজীবী সনদপত্র ও রেজিস্ট্রেশন দেওয়া হয়। চূড়ান্তভাবে কোর্স সম্পন্নকারীকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদ সার্টিফিকেট প্রদান করে।

ইন্টার্নশিপ :
এই ইন্টার্নশিপ ট্রেনিংটি অত্যাধিক গুরুত্বপূর্ণ কারণ ভবিষ্যতে কর্মক্ষেত্রের সাথে অর্জিত জ্ঞানের সমন্বয় সাধন করে বলে। হাতে কলমে রোগী পর্যবেক্ষণ, রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা প্রদানসহ রোগীর অন্যান্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ের ওপর সরাসরি শিক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা এই ট্রেনিংয়ের অন্তর্ভূক্ত। চতুর্থ বর্ষে ফিল্ড ট্রেনিংয়ের (ইন্টার্নশিপ) মেয়াদ এক বছর। এই এক বছরের মধ্যে নয় মাস সদর (সরকারি) হাসপাতালে এবং তিন মাস উপজেলাস্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ট্রেনিং নেয়া বাধ্যতামূলক।

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.