ভাষণ লেখার কৌশল

এইচএসসির বাংলা দ্বিতীয় পত্রের একটি আইটেম ‘ভাষণ’। মান ১০। নিয়ম মেনে লিখলে এ অংশে নম্বর তোলা সহজ। তবে ধাপ, ধারাবাহিকতা, তথ্য ঠিকঠাক থাকতে হবে।

(১) সম্ভাষণ : ভাষণ বা বক্তব্যের শুরুতেই উপস্থিতিদের যথাযথভাবে সম্বোধন করতে হবে। ভাষণ যদি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো অনুষ্ঠান উপলক্ষে লিখতে বলা হয়, তাহলে সেখানে অধ্যক্ষ, শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অতিথিও থাকতে পারেন। তাই ভাষণে তাদের উদ্দেশ করে সম্ভাষণ করতে হবে।
যেমন—মাননীয় প্রধান অতিথি/শ্রদ্ধেয় অধ্যক্ষ ও উপস্থিত শিক্ষকবৃন্দ/প্রিয় ছাত্র-ছাত্রী ভাই-বোনেরা/সম্মানিত উপস্থিতি।
প্রতিষ্ঠানের বাইরে হলে—মাননীয় প্রধান অতিথি/সম্মানিত সভাপতি/প্রিয় এলাকাবাসী/সংগ্রামী বন্ধুরা/সম্মানিত উপস্থিতি ইত্যাদি উল্লেখ করা যেতে পারে।
সম্ভাষণ অংশের নমুনা—
…দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের সম্মানিত সভাপতি, মাননীয় প্রধান অতিথি, আমন্ত্রিত বিশেষ অতিথি ও মঞ্চের সামনে উপবিষ্ট সুধীমণ্ডলী; সবার প্রতি আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা।
(২) ভূমিকা : সম্ভাষণের পর এমন কিছু কথা দিয়ে ভাষণ শুরু করতে হবে, যাতে ভাষণের বিষয়বস্তু সম্পর্কে শ্রোতা আগাম ধারণা পায়। যে উপলক্ষে ভাষণ সে সম্পর্কে কিছু সাধারণ তথ্য তুলে ধরতে হবে।
এ অংশে প্রাসঙ্গিক উক্তি, প্রচলিত কথা কিংবা কবিতাও থাকতে পারে।
(৩) মূল বক্তব্য : মূল বক্তব্য যেন গোছালো হয়। কোনো ঘটনা বা ইতিহাসের কথা উল্লেখ থাকলে তার যেন ধারাবাহিকতা থাকে। অপ্রয়োজনীয় কথা লেখা যাবে না। যে বিষয়বস্তুর ওপর ভাষণ লেখা হচ্ছে,
সে ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে হবে। কী উপলক্ষে কোন বিষয়বস্তুর ওপর কাদের উদ্দেশ করে ভাষণ—সে অনুযায়ী বুঝেশুনে ভাষণের বাক্য সাজাতে হবে। পরীক্ষায় সাধারণত মুক্তিযুদ্ধ ও ভাষা আন্দোলনসংশ্লিষ্ট ভাষণ বেশি আসে।
ওপরের প্রতিটি অংশ আলাদা আলাদা প্যারায় লিখতে হবে। মূল বক্তব্য অংশ একাধিক প্যারায় লেখা যেতে পারে; প্রতিটি প্যারার শুরুতে প্রিয় ছাত্র-ছাত্রী ভাই-বোনেরা/ সুপ্রিয় সুধীমণ্ডলী ইত্যাদি যেন থাকে।
(৪) সমাপ্তি : মূল বক্তব্যের আলোকে আশাবাদ ব্যক্ত করে কিংবা উপদেশ/অনুরোধমূলক কথা বলে ভাষণ শেষ করতে হবে।
[ সূত্র : কালের কণ্ঠ । পড়ালেখা । ৪ জুলাই ২০১৮ ]

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

gtag('config', 'UA-69122190-1');