এসএসসি প্রস্তুতি : সৃজনশীল গণিত নিয়ে দরকারি কথা

এসএসসি পরীক্ষার সৃজনশীল গণিত বিষয়ের দরকারি কিছু বিষয় নিচে আলোচনা করা হলো।
গণিতে কেন সৃজনশীল প্রশ্নপদ্ধতি
সৃজনশীল প্রশ্নপদ্ধতির মৌলিক বিষয় হচ্ছে একজন পরীক্ষার্থী শুধু পাঠ্যবইয়ের কিছু তথ্য মুখস্থ করে (না জেনে, না বুঝে) পরীক্ষার খাতায় লিখে দিল, এ অবস্থা থেকে বের হয়ে আসা। পুরোনো পরীক্ষাপদ্ধতিতে (আগের নিয়মে) একজন শিক্ষার্থী শুধু ১০-২০টি নির্বাচিত অঙ্ক বুঝে বা না বুঝে মুখস্থ করে উত্তর লিখতে পারত। কিন্তু এখন একজন শিক্ষার্থী অঙ্ক যেটা করেছে, সেটা বুঝে করেছে কি না, তা যাচাই করে দেখা হবে। একজন শিক্ষার্থীকে যদি তার চারপাশের পরিবেশের সাপেক্ষে অঙ্কটা শিখিয়ে দেওয়া যায়, তা হলে সেই শিক্ষাটা হবে আনন্দদায়ক। শিক্ষা যদি আনন্দদায়ক হয়, তবে শিক্ষার্থীর মনেও থাকবে দীর্ঘদিন আর সহজেই সে অঙ্কটা বুঝে করতে পারবে।
উদ্দীপকের আলোকে ৩টি প্রশ্ন
সৃজনশীল প্রশ্নপদ্ধতিতে গণিত ও উচ্চতর গণিত বিষয়ের শিক্ষার্থীদের অন্যান্য বিষয়ের মতো উদ্দীপকের আলোকে চারটি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে না। গণিত ও উচ্চতর গণিত বিষয়ের ক্ষেত্রে উদ্দীপকের ওপর ভিত্তি করে তিনটি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। সৃজনশীল অংশের প্রতিটি প্রশ্নের নম্বর থাকবে ১০ করে। প্রশ্নটি তিনটি অংশে ভাগ থাকবে। নম্বর বরাদ্দ থাকবে—
‘ক’ অংশে নম্বর বরাদ্দ ২,
‘খ’ অংশে নম্বর বরাদ্দ ৪,
‘গ’ অংশে নম্বর বরাদ্দ ৪।
গণিত ও উচ্চতর গণিতের এই ‘ক’, ‘খ’ ও ‘গ’ অংশ গাণিতিক সমস্যাসংক্রান্ত। প্রশ্নের ‘ক’ অংশটি সবচেয়ে সহজ। এই অংশের উত্তর দেওয়ার সময় একজন পরীক্ষার্থীকে কম সময় ব্যয় করতে হবে এবং উত্তরের জন্য চিন্তার ব্যাপকতা কম থাকবে।
‘খ’ অংশটি তুলনামূলকভাবে ‘ক’ অংশের চেয়ে কঠিন হবে। এই অংশের উত্তর দিতে গেলে একজন পরীক্ষার্থীকে ‘ক’ অংশের চেয়ে বেশি সময় ব্যয় করতে হবে এবং চিন্তার গভীরতা বেশি হবে।
‘গ’ অংশটি ‘খ’ অংশের চেয়ে তুলনামূলক কঠিন। উত্তর দেওয়ার ক্ষেত্রে এই অংশটি পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে বেশি সময় এবং চিন্তার গভীরতার দাবি রাখে।
গণিত ও উচ্চতর গণিতের প্রশ্নের উত্তর লেখার সময় পূর্ণ বাক্যের প্রয়োজনীয়তা কম। প্রশ্নের চাহিদা অনুযায়ী শিক্ষার্থীকে গাণিতিক ধাপগুলো সমাপ্ত করতে হবে।
এখন পাস নম্বর পাওয়া সহজ
সৃজনশীল পদ্ধতিতে গণিতে পাস নম্বর পেতে কোনো অসুবিধা হবে না। দাঁড়ি-কমার সঠিকতার চেয়েও এখানে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ১০ নম্বরের একটি প্রশ্নে একজন শিক্ষার্থী তিনটি অংশ (‘ক’, ‘খ’ ও ‘গ’ অংশ) পর্যন্ত যৌক্তিকভাবে শেষ করতে পেরেছে কি না। এই তিনটি অংশের (‘ক’, ‘খ’ ও ‘গ’ অংশ) যে যে ধাপ পর্যন্ত শেষ করতে পারবে, তার ওপরই সে নম্বর পাবে। এক ধাপের ভুলের জন্য অন্য ধাপের নম্বর কাটা যাবে না বা কোনো প্রভাব পড়বে না। সব তথ্যই কিন্তু শিক্ষার্থীর পাঠ্যবইয়ের মধ্যে আছে, সেই তথ্যগুলোর সমন্বয়েই নতুন একটা অবস্থার মাধ্যমে পরীক্ষা করা হবে মাত্র।
গণিতের তিনটি ধাপ
প্রথম ধাপটি ‘সহজ’, দ্বিতীয় ধাপটি ‘মধ্যম’ এবং শেষের ধাপটি ‘কঠিন’। প্রতিটি পরীক্ষায় গণিতের সৃজনশীল প্রশ্ন করার সময় শিক্ষার্থীদের চিন্তার গভীরতা এবং সময়ের দিকটি বিবেচনা করে তিনটি অংশে (‘ক’, ‘খ’ ও ‘গ’ অংশ) তৈরি করা হবে। ১০ নম্বরের একটি অঙ্কে নম্বর বণ্টন হবে = ২+৪+৪। প্রথম অংশের ‘সহজ’ উত্তরটি সবাই পারবে। মধ্যম মানের শিক্ষার্থীরা ‘মধ্যম’ ধাপ পর্যন্ত পারবে এবং তৃতীয় ধাপের ‘কঠিন’ অংশ পর্যন্ত পারবে একটু মেধাবীরা।
মুখস্থ করার দরকার নেই
সৃজনশীল পদ্ধতিতে কোনো শিক্ষার্থী সূত্র বা অঙ্ক মুখস্থ করে উত্তর দিতে পারবে না। শিক্ষার্থীকে অবশ্যই চিন্তা করে উত্তর দিতে হবে। ধাপ এমনভাবে করা হবে, যেখানে সহজ থেকে কঠিন পর্যন্ত থাকবে, যেন সাধারণ মানের একজন শিক্ষার্থীও কিছু উত্তর করতে পারে। আমরা মনে করি, এই সৃজনশীল পদ্ধতিতে কোনো শিক্ষার্থীর ফেল করার সুযোগ নেই। প্রশ্ন থাকবে তিন ধরনের—সহজ, মধ্যম ও কঠিন। ৩০ শতাংশ সহজ, ৫০ শতাংশ মধ্যম ও ২০ শতাংশ কঠিন প্রশ্ন হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো শিক্ষার্থীর ফেল করার বা শূন্য পাওয়ার সুযোগই নেই।
পাঠ্যবইয়ের আলোকেই প্রশ্ন হবে
গণিতের একটি ছোট তথ্যও পাঠ্যবইয়ের বাইরে থেকে আসবে না। সব তথ্য, সূত্র, তত্ত্ব—সবই থাকবে তোমার পড়া পাঠ্যবইয়ের মধ্যেই। তবে ঘটনা বা অবস্থাটি থাকবে সম্পূর্ণ নতুন। সেটা হবে তোমার বাস্তব জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত।
হুবহু একই প্রশ্ন বারবার আসবে না
যে প্রশ্নটি আগে এসেছে, সেটি পরে আসবে না—এ কথা ঠিক নয়। হয়তো আসবে, কিন্তু সে ক্ষেত্রে ধরনটা হবে ভিন্ন। প্রশ্ন হাতে পেয়েই লেখা শুরু করা ঠিক হবে না। প্রিয় শিক্ষার্থী, গণিত প্রশ্নটি প্রথমে ভালো করে পড়বে, বিষয়টি নিয়ে ভাববে, চিন্তা করবে, তারপর লিখবে। মনে রাখবে, গণিতে প্রশ্নের উত্তরে লেখার পরিমাণ হবে কম, কিন্তু চিন্তার পরিমাণটা হবে বেশি।
বহু নির্বাচনি প্রশ্ন
সৃজনশীল গণিতে বহুনির্বাচনি অংশে প্রশ্ন থাকবে ৪০টি। সময় ৪০ মিনিট। একজন শিক্ষার্থী ৪০ সেকেন্ডে একটি সহজ প্রশ্ন, ৪০-৬০ সেকেন্ডে একটি মধ্যম প্রশ্ন ও ৬০-৯০ সেকেন্ডের মধ্যে একটি কঠিন প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবে। প্রশ্নের বৈচিত্র্য আনার জন্য ছবি, চিত্র, টেবিল ইত্যাদি ব্যবহার করা হবে।
শিক্ষকদের প্রতি
এখন শিক্ষার্থীদের চেয়ে একজন শিক্ষককে দ্বিগুণ সৃজনশীল হতে হবে। একজন শিক্ষককে গণিত বিষয়ে বেশি জানা থাকতে হবে। ভালো জানা না থাকলে সৃজনশীল প্রশ্নের মূল বিষয়টি সঠিকভাবে বোঝাতে পারবেন না। বাস্তব জীবনের সঙ্গে অঙ্কের বিষয়টি সমন্বয় করতে হবে। শিক্ষার্থীকে সেই বিষয়ের গভীরে নিয়ে যেতে হবে।
রবিউল কবীর চৌধুরী, ঊর্ধ্বতন বিশেষজ্ঞ, পরীক্ষা ও মূল্যায়ন সমন্বয়ক, সৃজনশীল প্রশ্নপদ্ধতি-বিষয়ক মাস্টার ট্রেইনার প্রশিক্ষক, বাংলাদেশ পরীক্ষা উন্নয়ন ইউনিট—সেসিপ, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকা।
সূত্র : প্রথম আলো, ১-১-২০১৬

  • শিক্ষাবিষয়ক দরকারি তথ্য তাৎক্ষণিক পেতে আমাদের ফেইসবুক পেজে লাইক দিয়ে রাখুন : www.facebook.com/EducationBarta
  • মন্তব্য করুন

    This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.