যেখানে পড়াশোনা সবার জন্য উন্মুক্ত

বয়সের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। নিয়মিত ক্লাসও করতে হয় না। এক কথায় উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা অনেক সহজ। তাই ঝরে পড়া শিক্ষার্থীরা তো বটেই, অনেক কর্মজীবীও এখানে পড়াশোনার সুযোগ পাচ্ছে। লিখেছেন হাবিবুর রহমান তারেক
পড়তে চেয়েছিলেন মোফাজ্জল হোসেন। কিন্তু অভাব বাধা হয়ে দাঁড়ায়। বাসের টিকিট বিক্রির কাজ নেন। মহাখালী বাস টার্মিনালে এগারসিন্দুর বাস কাউন্টারে সপ্তাহে তিন-চার দিন এ কাজ করেন তিনি। উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ায় এখন আর পড়তে অসুবিধা হচ্ছে না। কাজের ফাঁকেই পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারছেন। আগামী বছর গাজীপুরের ভাওয়াল বদরে আলম কলেজ থেকে এইচএসসি দেবেন। প্রতিদিন ক্লাস করতে হয় না বলে মোফাজ্জলের মতো অনেকেই পড়ার সুযোগ পাচ্ছেন এখানে। উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পাচ্ছেন সাত লাখের বেশি শিক্ষার্থী। কেন বাউবি বয়স কিংবা শিক্ষাবিরতি এখন আর বড় কোনো বাধা নয়। বাউবিতে পড়াশোনার সুযোগ সবার জন্যই উন্মুক্ত। ঘরে বসেই শেখার সুযোগ থাকায় শিক্ষার্থীকে ক্লাসে আসতে হয় না প্রতিদিন। পেশাজীবীরা কাজের পাশাপাশি এই বিকল্প শিক্ষাব্যবস্থায় সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। শুধু শুক্রবারের একটি নির্ধারিত ক্লাসে উপস্থিত থাকলেই হয়। বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণই প্রমাণ করে বাউবি পরিচালিত প্রোগ্রামগুলোর জনপ্রিয়তা। বাউবির আঞ্চলিক পরিচালক (ঢাকা) এ বি এম শাহাবউদ্দিন বলেন, শুধু ঢাকা বিভাগেই পড়াশোনা করছে প্রায় ৯৫ হাজার শিক্ষার্থী। কাদের জন্য বাউবি যেকোনো স্থানের যেকোনো পেশার মানুষ সম্পৃক্ত হতে পারবেন দূরশিক্ষণ পদ্ধতির এ শিক্ষাব্যবস্থায়। শর্ত বলতে একটাই, কাঙ্ক্ষিত কোর্সে ভর্তির নূ্যনতম যোগ্যতা থাকতে হবে। অর্থাৎ কেউ যদি বাউবিতে এইচএসসি প্রোগ্রামে ভর্তি হতে চায় তাহলে তাঁকে শুধু যেকোনো সালে এসএসসি কিংবা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেই হবে। তাই ঝরেপড়া অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনার সুযোগ পাচ্ছে এখানে। যেমন গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার প্রতাপপুর গ্রামের ফেরদৌসি আক্তার। উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে এসএসসি প্রোগ্রামে ভর্তি হয়ে পরীক্ষা দিচ্ছেন। ফেরদৌসি জানান, সপ্তাহে একদিন (শুক্রবার) ক্লাস করতে হয়, পড়াশোনা করতে তাই তেমন কোনো সমস্যা হয় না।’ যেসব কোর্সে পড়তে পারবেন এসএসসি, এইচএসসি, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর স্তরের বিভিন্ন প্রোগ্রাম ছাড়াও সার্টিফিকেট এবং পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা প্রোগ্রাম চালু আছে বাউবিতে। ব্যাচেলর অব বিজনেস স্টাডিজ (বিবিএস), ব্যাচেলর অব আর্টস (বিবিএ), ব্যাচেলর অব সোশ্যাল সায়েন্স (বিএসএস), ব্যাচেলর অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (বিবিএ) ও মাস্টার্স ইন বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন পড়ার সুযোগ আছে বাউবিতে। বিএড, এমএড, বিএসসিসহ আরো বেশ কয়েকটি প্রোগ্রামে ভর্তির সুযোগ আছে এখানে। নামমাত্র খরচ বাউবিতে পড়াশোনার খরচ অনেক কম। বিবিএ ও এমবিএ প্রোগ্রামে পড়াশোনা করতে এখানে খরচ হবে ৪০ হাজার টাকা। দুই বছরমেয়াদি এসএসসি ও এইচএসসি কোর্স সম্পন্ন করতে মোট খরচ পড়বে যথাক্রমে দুই হাজার ৭৫০ ও তিন হাজার ৯০০ টাকা। বিএ ও বিএসএস প্রোগ্রাম ফি ১০ হাজার টাকা ও বিবিএসের জন্য লাগে ১০ হাজার ৮০০ টাকা। কখন, কোথায় এসএসসি প্রোগ্রামের ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয় নভেম্বরে। ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরই শিক্ষার্থীদের আবেদন করতে হয়। সেপ্টেম্বর-অক্টোবর থেকে শুরু হয় এইচএসসি প্রোগ্রামে ভর্তির কার্যক্রম। বিএ, বিএসএস এবং বিবিএসে ভর্তি হতে চাইলে যোগাযোগ করতে হবে অক্টোবর থেকে নভেম্বরে। বিবিএ এবং এমবিএতে ভর্তি করা হয় এপ্রিলে। ১২ শতাধিক স্টাডি সেন্টারের মাধ্যমে দেশব্যাপী শিক্ষাসেবা পেঁৗছে দিচ্ছে বাউবি। বাউবির ১২টি আঞ্চলিক অফিস থেকেও জেনে নিতে পারবেন স্টাডি সেন্টারের প্রয়োজনীয় তথ্য। বিভিন্ন কোর্স, ভর্তি ও পরীক্ষাসংক্রান্ত বিষয়ে বিস্তারিত জানতে যোগাযোগ করতে পারেন এই ঠিকানায়_বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বোর্ড বাজার, গাজীপুর। ফোন : ৯২৯১১১২। ক্লাস হয় যেভাবে এ শিক্ষাব্যবস্থায় ক্লাস হয় বিভিন্ন ‘শিক্ষা উপকরণের’ মাধ্যমে,
যার দ্বারা শিক্ষার্থীরা বাসায় বসেই শিখতে পারেন। টেক্সট বই ও সিডি ছাড়াও শিক্ষার্থীরা বাসায় বসেই টিভি কিংবা রেডিও অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ক্লাস করতে পারেন। বিটিভিতে সপ্তাহে ছয় দিন এবং বাংলাদেশ বেতারের ‘ঢাকা-খ’-তে প্রতিদিনই বাউবির বিভিন্ন কোর্সের ক্লাস নেওয়া হয়, যাতে দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে শিক্ষার্থীরা অংশ নিতে পারেন। তা ছাড়া প্রতি সপ্তাহে বন্ধের দিন অর্থাৎ শুক্রবারে শিক্ষার্থীরা সরাসরি ক্লাস করার সুযোগ পান। পাঠদান ভিন্ন হলেও প্রচলিত পরীক্ষা পদ্ধতিতেই শিক্ষার্থীর যোগ্যতা মূল্যায়ন করা হয়। অন্য সব পরীক্ষার মতো এখানেও নির্দিষ্ট কেন্দ্রে উপস্থিত থেকে নির্ধারিত সময়ে শিক্ষার্থীকে পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়। বাউবি সনদের মূল্যায়ন কতটুকু চাকরিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাউবি সনদেরও যথেষ্ট মূল্যায়ন করা হয়_এমনটাই দাবি করলেন বাউবির ঢাকা বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক এ বি এম শাহাবউদ্দিন। তিনি জানান, বাউবির অনেক শিক্ষার্থীই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ও বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করছেন। এ বিষয়ে আরো তথ্য জানতে ঘুরে আসতে পারেন বাউবির অফিশিয়াল ওয়েবসাইট (www.bou.edu.bd) থেকে।
আঞ্চলিক অফিস আছে যেখানে
* ঢাকা : গভ. ল্যাবরেটরি স্কুল রোড ধানমণ্ডি, ঢাকা, ফোন : ০২-৮৬১৯৬২০ * চট্টগ্রাম : সিআরবি রোড (স্টেডিয়ামসংলগ্ন), চট্টলা ফোন : ০৩১-৬১৯৬৩৩ * যশোর : যশোর উপশহর ফোন : ০৪২১-৭৩২৫০ * ময়মনসিংহ : মাশকান্দা (ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক সংলগ্ন) ০৯১-৫২৪০৮ * রাজশাহী : নহাটা ফোন : ০৭২১-৭৬১৬০৭ * কুমিল্লা : ঢাকা-চট্টগ্রাম ট্রাংক রোড নোয়াপাড়া, দুর্গাপুর ফোন : ০৮১-৭৭৫৫৭ * সিলেট : পিরিজপুর, দক্ষিণ সুরমা ফোন : ০৮২১-৭১৯৫২৩ * খুলনা : বাড়ি-৫১, রোড-৫ সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকা ফোন : ০৪১-৭৩১৭৯৫ * বরিশাল : রূপাতলী, জাগুয়া ফোন : ০৪৩১-৭১৩২২ * বগুড়া : বিশ্বরোড, বনানী ফোন : ০৫১-৭২৯৭৪ * রংপুর : আর কে রোড ফোন : ০৫২১-৬৩৫৯৩ * ফরিদপুর : হারোকান্দি (বরিশাল রোড) ফোন : ০৬৩১-৬২০৮১।
Source: The Kaler Kantho [26.6.2010]

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.