নার্সিংয়ে পড়াশোনা

সারা দেশে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে সেবিকা বা নার্সের চাহিদা বাড়ছেই। এ ছাড়া বিদেশে উচ্চ বেতনে কর্মসংস্থানের সুযোগ তো আছেই। সেবা পরিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দেশে নিবন্ধিত সেবিকার সংখ্যা মাত্র ২৪ হাজার। সরকারি পর্যায়ে আরও কয়েক হাজার সেবিকা নিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানান সংশ্লিষ্টরা। চাহিদা থাকায় পড়াশোনা শেষে অনেকেই যুক্ত হচ্ছেন এ পেশায়। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে ‘নাসিং’ বিষয়ে ডিপ্লোমা ও বিএসসিতে আবেদনকারীর সংখ্যাও দিন-দিন বাড়ছে।

ভর্তি আবেদনের যোগ্যতা
সরকারি ও বেসরকারি অনেক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নাসিংয়ে ডিপ্লোমায় পড়াশোনার সুযোগ আছে। এ বিষয়ে বিএসসিতে পর্যায়ের কোর্স চালু আছে সামরিক বাহিনী পড়িচালিত ‘আর্মড ফোর্সেস মেডিকেল ইনস্টিটিউট’-এ। এখানে চার বছর মেয়াদি বিএসসি ইন নার্সিং পড়তে হলে আপনাকে শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি নির্ধারিত শারীরিক যোগ্যতার অধিকারী হতে হবে।
আবেদনের শিক্ষাগত যোগ্যতা
আর্মড ফোর্সেস মেডিকেল ইনস্টিটিউটে ভর্তি হতে উচ্চমাধ্যমিক অথবা সমমানের পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে (জীববিজ্ঞানসহ) উত্তীর্ণ হতে হবে। মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় মোট জিপিএ থাকতে হবে ন্যূনতম ৬.০০। তবে প্রতিটি পরীক্ষায় আলাদা করে জিপিএ-২.৫০-এর ওপরে থাকতে হবে।
শারীরিক যোগ্যতা
ভর্তি-ইচ্ছুক প্রার্থীর বয়স ১৭ থেকে ২২ বছর হতে হবে। উচ্চতা থাকতে হবে কমপক্ষে পাঁচ ফিট এক ইঞ্চি। ওজন ৩৯.৯২ কিলোগ্রাম (৮৮ পাউন্ড)। বুকের মাপ স্বাভাবিক-২৬ ইঞ্চি, সম্প্রসারিত-২৮ ইঞ্চি। চোখের মাপ ৬/৬ হতে হবে। আর শ্রবণশক্তিও হতে হবে স্বাভাবিক। প্রার্থীকে অবশ্যই অবিবাহিত হতে হবে। প্রার্থী যদি নির্বাচিত হন তবে কোর্স শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত অবিবাহিত থাকতে হবে।
নির্বাচন পদ্ধতি: জানা গেছে, আর্মড ফোর্সেস মেডিকেল ইনস্টিটিউটে নার্সিং পড়তে চাইলে তাঁকে কয়েকটি ধাপ পেরিয়ে উত্তীর্ণ হতে হবে। ধাপগুলো হচ্ছে—লিখিত পরীক্ষা, ডাক্তারি পরীক্ষা, নির্বাচনী বোর্ডে মৌখিক এবং চূড়ান্ত নির্বাচন। প্রার্থী একটি ধাপ পার হতে পারলেই কেবল পরবর্তী ধাপে জেতে পারবেন।
লিখিত পরীক্ষা: নির্বাচনের প্রথম ধাপই হচ্ছে লিখিত পরীক্ষা। লিখিত পরীক্ষা হবে বহুমুখী নির্বাচন পদ্ধতিতে। মোট নম্বর ১০০। বাংলা, ইংরেজি, জীববিজ্ঞান, পদার্থ, রসায়ন এবং সাধারণ জ্ঞান বিষয় থেকে প্রশ্ন থাকবে। আর প্রশ্ন হবে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠ্যক্রম থেকে।
মেডিকেল টেস্ট
লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মেডিকেল টেস্ট বা ডাক্তারি পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। আর্মড ফোর্সেস মেডিকেল ইনস্টিটিউটের একজন শিক্ষার্থী বলেন, ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য একটি নির্ধারিত বোর্ড থাকে।

চূড়ান্ত নির্বাচন
চূড়ান্ত নির্বাচনের দায়িত্বে থাকে সামরিক চিকিৎসা মহাপরিদপ্তরের মহাপরিচালক। এখানে নার্সিং ছাত্রী নির্বাচনের চূড়ান্ত কাজ সম্পন্ন হয়ে থাকে। যাঁরা নির্বাচিত হবেন, তাঁরা আর্মড ফোর্সেস মেডিকেল ইনস্টিটিউটে ভর্তি হয়ে কোর্সে যোগদান করতে পারবেন।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
– আবেদনের সঙ্গে নিম্নোক্ত কাগজপত্র জমা দিতে হবে:
– ইউনিয়ন পরিষদ/পৌরসভার চেয়ারম্যান কর্তৃক প্রদত্ত সনদ।
– শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ।
– শেষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান থেকে চারিত্রিক সনদ।
– সদ্য তোলা তিন কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি।
আবেদন সংগ্রহ
ভর্তির আবেদনপত্র এবং আনুষঙ্গিক খরচ বাবদ ৩০০ টাকা নগদ পরিশোধ করে আর্মড ফোর্সেস মেডিকেল ইনস্টিটিউট থেকে। বিস্তারিত জানা যাবে অনলাইনে।
যেসব সুযোগ-সুবিধা পাবেন শিক্ষার্থীরা
শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে বিনা খরচে আবাসন সুবিধা এবং খাবারের ব্যবস্থা। প্রথমবারে তাঁদের বিনা খরচে পোশাকও দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণ শেষে চাকরির কোনো নিশ্চয়তা দেওয়া হয় না। তবে তাঁরা সশস্ত্র বাহিনীর স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোয় অগ্রাধিকার পাবেন। নিয়োগ পেতে পারেন লেফটেন্যান্ট হিসেবে। প্রশিক্ষণকালে তাঁদের নার্সিং স্টাফ অফিসার হিসেবে গণ্য করা হবে। আর ব্যবহারিক ক্লাস করতে হয় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে।
 

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

gtag('config', 'UA-69122190-1');