হাতের নাগালেই স্টুডেন্ট ভিসা!

সম্প্রতি ঢাকার আমেরিকান সেন্টার ‘স্টুডেন্ট ভিসা প্রক্রিয়া’ শীর্ষক এক সেমিনারের আয়োজন করে। যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের কর্মকর্তা উইলিয়াম হ্যামাকার এতে ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান এড়ানোর কৌশল এবং ভিসা প্রসেসিং বিষয়ে দরকারি নির্দেশনা দেন। স্টুডেন্ট ভিসা পেয়েছেন এমন অনেকেই অংশ নেন সেমিনারে। উইলিয়াম হ্যামাকার ও ভিসা পাওয়া শিক্ষার্থীদের পরামর্শের আলোকে সাজানো হলো এবারের প্রধান প্রতিবেদন, লিখেছেন হাবিবুর রহমান তারেক
প্রথমবার আবেদন করে ভিসা পাননি এহতেশাম রেজা। প্রত্যাখ্যাত হয়ে মনে হয়েছিল আর বুঝি আমেরিকায় পিএইচডি করা হবে না। তবুও হাল ছাড়েননি। দ্বিতীয়বার আবেদন করে ২১ জুন আবারও ভিসা সাক্ষাৎকারের সুযোগ পান। এবার ঠিকই পেরেছেন তিনি। ভিসা ‘নিশ্চিত’ হয়েছে, এখন কেবল যুক্তরাষ্ট্রের লং আইল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফার্মাসি বিষয়ে পিএইচডি শুরুর অপেক্ষা।
নিজের ভিসাপ্রাপ্তির অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন এহতেশাম রেজা। তিনি জানান, একটু সচেতন হলে তাঁর মতো ভিসা পাবে অন্য শিক্ষার্থীরাও। যোগ্যতা থাকার পরও সঠিক ধারণা না থাকা কিংবা অজ্ঞতার কারণে ভিসা আবেদন রিফিউজ হয় অনেকেরই। ভিসা না পেয়ে অনেক শিক্ষার্থীই এ প্রক্রিয়াকে ‘জটিল’ মনে করে ভেঙে পড়েন। বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্নের ইতি টানেন।
শুধু আমেরিকার ক্ষেত্রেই নয়, প্রয়োজনীয় নির্দেশনা মেনে আবেদন করলে যোগ্য শিক্ষার্থীরা যেকোনো দেশের ভিসা প্রত্যাখ্যান এড়াতে পারেন খুব সহজেই।
যে বিষয়গুলো মাথায় রাখতে হবে
‘ভিসা পদ্ধতি’ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা রাখতে হবে সবার আগে। যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের কর্মকর্তা উইলিয়াম হ্যামাকার বলেন, ‘স্বচ্ছ ধারণার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের কথা বলা উচিত, তাঁদের পরামর্শ নেওয়া উচিত। যেমন_আমেরিকান সেন্টারে আমেরিকায় উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের বিনা খরচে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। যোগ্যরা ভিসাও পাচ্ছে। অথচ অনেকেই এজেন্টের কাছে যায়, তাদের কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে ‘ভুল ধারণা’ পায়। এতে ক্ষতিটা শিক্ষার্থীরই হয়। এজেন্টদের লক্ষ্য টাকা উপার্জন, শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা নিয়ে তাদের খুব বেশি মাথাব্যথা নেই। আর আমাদের দায়িত্ব শিক্ষার্থীকে উচ্চশিক্ষায় সহায়তা করা।’
তিনি আরো বলেন, ‘অনেক শিক্ষার্থীর ধারণা ভিসা সাক্ষাৎকার অনেক কঠিন কিছু, আসলে তা নয়। আমরা যা প্রশ্ন করি, এর সবই শিক্ষার্থীর জানা আছে। শুধু দেখা হয়, শিক্ষার্থী কী বলছে, কিভাবে বলছে। তবে এটা ঠিক, শিক্ষার্থী কতটা সৎ_তাও দেখা হয়। অনেকেই সত্য লুকায়, এ ক্ষেত্রে তারা প্রত্যাখ্যাত হয়।’ যদি কেউ ভর্তি আবেদনের ধাপগুলো সঠিকভাবে সম্পন্ন না করে, তাহলে তার আর ভিসা আবেদন করেও কোনো লাভ নেই।
স্টুডেন্ট ভিসার রকমফের
একেক দেশে স্টুডেন্ট ভিসার ধরন একেক রকম। যেমন_আমেরিকার স্টুডেন্ট ভিসাকে ‘এফ-১’ ভিসা বলে। অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের পয়েন্টভিত্তিক ভিসা পদ্ধতি ‘টিয়ার-৪’। ভিসার আবেদন প্রক্রিয়া প্রায় একই, যদিও বিভিন্ন দেশ ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে ভিন্ন নীতিমালা অনুসরণ করে থাকে। কিছু দেশে ‘ভিসা সাক্ষাৎকার’ দিতে হয়, তবে বেশির ভাগ দেশেই এখন সাক্ষাৎকারের প্রয়োজন হয় না। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ‘অফার লেটার’ পাঠালেই ভিসা প্রায় নিশ্চিত কোনো কোনো দেশে। আবার অনেক দেশে অফার লেটার পাওয়া যতটা সহজ, ভিসা পাওয়া ততটাই কঠিন।
কিছু বিষয়ে নিশ্চিত হয়েই একটি দেশের দূতাবাস বা কর্তৃপক্ষ ভিসা দেবে। যেমন_কোনো আবেদনকারী যদি ‘পড়াশোনা শেষে কেন বাংলাদেশে ফিরে আসবে’ এই প্রশ্নের সদুত্তর দিতে না পারেন বরং জবাবে অযৌক্তিক, অপ্রাসঙ্গিক কথা বলেন, তাহলে ভিসা কর্মকর্তা ভিসা দিতে চায় না।
কাগজপত্র জমা দেওয়ার আগে
বিদেশে পড়াশোনা করতে আগ্রহী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ আবেদন করে যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, কানাডাসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশে। এসব দেশের উচ্চশিক্ষাবিষয়ক বেশ কিছু ওয়েবসাইট শিক্ষার্থীদের ভিসা আবেদনের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। সেই সঙ্গে যুক্ত করেছে সংশ্লিষ্ট দেশের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের দেওয়া ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যানের কারণগুলো।
দেখা যায়, দক্ষিণ এশিয়ার শিক্ষার্থীদের ভিসা আবেদন তুলনামূলক বেশি প্রত্যাখ্যান করা হয়। এর প্রধান কারণ_অবৈধ বা ভুয়া স্পন্সর দেখানো, জমা দেওয়া কাগজপত্রে ভুল তথ্য থাকা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের কোনোটি বাদ পড়া, একাডেমিক ফল আশানুরূপ না হওয়া, শিক্ষার্থীকে অফার লেটার পাঠানো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মান ভালো না থাকা, কাগজপত্র ইংরেজির পরিবর্তে অন্য কোনো ভাষায় থাকা ও সনদসহ জমা দেওয়া বিভিন্ন কাগজপত্রের অনুলিপি ঠিক না থাকা।
অনেক যোগ্য শিক্ষার্থী সঠিক নির্দেশনা না জেনে আবেদন করায় ‘অফার লেটার’ পাচ্ছেন না। এরপর তাঁরা এ প্রক্রিয়াটিকে জটিল মনে করে এ পথ থেকে সরে যাচ্ছেন। ইন্টারনেটেও দেওয়া থাকে দরকারি সব তথ্য।
আপিল করার আছে সুযোগ
শিক্ষার্থীর ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সাধারণত ‘রিফিউজাল অব এন্ট্রি ক্লিয়ারেন্স’ সরবরাহ করে। এতে ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান হওয়ার কারণগুলো উল্লেখ থাকবে। তবে ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান হলে যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়াসহ অনেক দেশেই শিক্ষার্থীরা এর বিরুদ্ধে আদালতে আপিল করতে পারেন। তবে এ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীকে নিশ্চিত হতে হবে, তিনি এ ভিসার যোগ্য এবং দরকারি সব কাগজপত্রই ঠিক আছে। পরিসংখ্যান অবশ্য বলছে, আপিল করে কেউ কেউ ভালো ফল পেলেও বেশির ভাগ শিক্ষার্থীই ভিসা পান না!
স্টুডেন্ট ভিসা আবেদন রিফিউজ হয় যেসব কারণে

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

gtag('config', 'UA-69122190-1');